জরুরী মাসায়েলনারীদের বিশেষ মাসালামাসায়ের

ঋতুবতী নারীদের সাথে আমাদের আচরন কেমন হওয়া উচিৎ?

ঋতুবতী নারীদের সাথে আচরন আমাদের কেমন হওয়া উচিৎ?

ঋতুবতী নারীদের সাথে এক বিছানায় শোয়াঃ

আমরা আজকের এই পোষ্ট থেকে ভালভাবে শিক্ষা গ্রহন করতে ঋতুবতী নারীদের সাথে আচরন আমাদের কেমন হবে।  আল্লাহর রাসুল (ﷺ) তার সহধর্মিণীদের সাথে ঋতুকালীন সময়ে একই বিছানায় শয়ন করতেন কিন্তু কোন সঙ্কোচবোধ করতেন না। তাদেরকে অপয়া মনে করতেন না, তাদেরকে অশুচি মনে করতেন না। যা নিম্নোক্ত সহিহ হাদিসসমূহ দ্বারা পরিষ্কার ভাবে প্রতীয়মান হয়।

حَدَّثَنَا الْمَكِّيُّ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ حَدَّثَنَا هِشَامٌ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، أَنَّ زَيْنَبَ ابْنَةَ أُمِّ سَلَمَةَ، حَدَّثَتْهُ أَنَّ أُمَّ سَلَمَةَ حَدَّثَتْهَا قَالَتْ، بَيْنَا أَنَا مَعَ النَّبِيِّ، صلى الله عليه وسلم مُضْطَجِعَةً فِي خَمِيصَةٍ إِذْ حِضْتُ، فَانْسَلَلْتُ فَأَخَذْتُ ثِيَابَ حِيضَتِي قَالَ ‏ “‏ أَنُفِسْتِ ‏”‏‏.‏ قُلْتُ نَعَمْ‏.‏ فَدَعَانِي فَاضْطَجَعْتُ مَعَهُ فِي الْخَمِيلَةِ‏.‏

উম্মে সালমা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমি নবী (ﷺ) এর সাথে একই চাদরের নীচে শুয়ে ছিলাম। হঠাৎ আমার হায়েয দেখা দিলে আমি চুপি চুপি বেরিয়ে গিয়ে হায়েযের কাপড় পড়ে নিলাম। তিনি বললেনঃ তোমার কি নিফাস দেখা দিয়েছে? আমি বললাম হ্যা। তখন তিনি আমাকে ডাকলেন। আমি তার সঙ্গে চাদরের ভিতর শুয়ে পড়লাম।

[বুখারী, মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈল, আস-সহিহ, অধ্যায়ঃ হায়য, পরিচ্ছেদঃ (২০৭) হায়য অবস্থায় স্ত্রীর সাথে মিলামেশা করা, ১/২৯৪ আরও দেখুন, ১/৩১৬,৩১৭; মুসলিম, আবুল হোসাইন ইবনুল হাজ্জাজ, আস-সহীহ, অধ্যায়ঃ (৩), হায়েজ সম্পর্কিত বর্ণনা, ২/৫৮১ , আহমাদ ইবনু হাম্বল, মুসনাদে আহমদ, অধ্যায়ঃ হায়য-ইস্তিহাযা ও নিফাস, পরিচ্ছেদঃ (৪), …… তাদের সাথে শোয়া ও খাওয়া দাওয়া বৈধ, ১/৩২৬, ইবনু মাজাহ, মুহাম্মাদ ইবনু ইয়াযিদ, আস-সুনান ১/৬৩৭।]

ঋতুবতী নারীদের সাথে যৌনমিলন ছাড়া সব ধরণের মেলামেশা করাঃ

এই সময়টাতে যৌনমিলন ছাড়া তাদের সাথে সব ধরণের মেলামেশা করা যায়। তাদের সাথে খাবার খাওয়া, চলাফেরা, তাদের সাথে বসা, স্বাভাবিক সকল কাজ কর্ম পরিচালনা করা, প্রভৃতি কোন কাজই ইসলাম এই সময়ে নিষেধ করে নি। বরং আল্লাহর রাসূল (ﷺ) এই সময়ে তার স্ত্রীদের দ্বারা মাথা আঁচড়াতেন, তাদের সাথে যৌনমিলন ছাড়া সব কিছুই করতেন, তাদের প্রাত্যহিক কর্মে সহায়তা করতেন এবং সেই সাথে তিনি তার সাহাবাদের উৎসাহ দিতেন তাদের স্ত্রীদের সাথে ভালো ব্যবহার করার জন্য।

وَحَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، حَدَّثَنَا ثَابِتٌ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ الْيَهُودَ، كَانُوا إِذَا حَاضَتِ الْمَرْأَةُ فِيهِمْ لَمْ يُؤَاكِلُوهَا وَلَمْ يُجَامِعُوهُنَّ فِي الْبُيُوتِ فَسَأَلَ أَصْحَابُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَأَنْزَلَ اللَّهُ تَعَالَى ‏{‏ وَيَسْأَلُونَكَ عَنِ الْمَحِيضِ قُلْ هُوَ أَذًى فَاعْتَزِلُوا النِّسَاءَ فِي الْمَحِيضِ‏}‏ إِلَى آخِرِ الآيَةِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏”‏ اصْنَعُوا كُلَّ شَىْءٍ إِلاَّ النِّكَاحَ ‏

যুহায়র ইবন হারব (র)…আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, ইয়াহুদীরা তাদের মহিলাদের হায়েয হলে তার সঙ্গে এক সাথে আহার করত না এবং এক ঘরে বাস করত না। সাহাবায়ে কিরাম এ সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (ﷺ)-কে জিজ্ঞেস করলেন। তখন আল্লাহ তাআলা এ আয়াত নাযিল করলেন: “তারা তোমার কাছে হায়েয সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। বলে দাও যে, তা হলো কষ্টদায়ক। সুতরাং হায়েয অবস্হায় তোমরা মহিলাদের থেকে পৃথক থাকবে…… ।”

এরপর রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তোমরা (সে সময় তাদের সাথে) শুধু সহবাস ছাড়া অন্যান্য সব কাজ কর ।

[মুসলিম, আবুল হোসাইন ইবনুল হাজ্জাজ, আস-সহীহ, অধ্যায়ঃ (৩) হায়েজ সম্পর্কিত বর্ণনা, ২/৫৮৯, ৫৯০; আলবানী, মুহাম্মাদ নাসিরুদ্দীন, সহীহ আত-তিরমিযী, ১/১৩২; আহমাদ ইবনু হাম্বল, মুসনাদে আহমদ, অধ্যায়ঃ হায়য-ইস্তিহাযা ও নিফাস, পরিচ্ছেদঃ (৪), …… তাদের সাথে শোয়া ও খাওয়া দাওয়া বৈধ, ১/৩২৪, আলবানী, মুহাম্মাদ নাসিরুদ্দীন, সহীহ আত-তিরমিযী, ১/১৩২।]

وَعَنْ أَنَسٍ ‏- رضى الله عنه ‏- { أَنَّ اَلْيَهُودَ كَانُوا إِذَا حَاضَتْ اَلْمَرْأَةُ لَمْ يُؤَاكِلُوهَا, فَقَالَ اَلنَّبِيُّ ‏- صلى الله عليه وسلم ‏- “اِصْنَعُوا كُلَّ شَيْءٍ إِلَّا اَلنِّكَاحَ

আনাস (রাযি) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, ইয়াহুদী লোকেরা তাদের হায়েযা স্ত্রীর সাথে পানাহার করা পরিত্যাগ করতো। নবী (ﷺ) বলেনঃ তোমরা যৌনমিলন ছাড়া তাদের সাথে সবই করবে।

[মুসলিম, আবুল হোসাইন ইবনুল হাজ্জাজ, আস-সহীহ, অধ্যায়ঃ (৩), হায়েজ সম্পর্কিত বর্ণনা, ২/৫৮৬; বুখারী, মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈল, আস-সহিহ, অধ্যায়ঃ হায়য,পরিচ্ছেদঃ (২০৭), হায়য অবস্থায় স্ত্রীর সাথে মিলামেশা করা, ১/২৯৬,২৯৭, ইবনু হাজার আসকালানী, বুলুগুল মারাম, অধ্যায়ঃ ঝতুবতী মহিলাদের যে সকল কাজ বৈধ, হাদিস নংঃ ১৪৩, হাদিস সহীহ।]

ঋতুবতী স্ত্রীকে আলিঙ্গন করাঃ

রাসূল (ﷺ) তার ঋতুবতী স্ত্রীকে আলিঙ্গন করতেন। তাদের গায়ের সাথে গাঁ মিশিয়ে শুতেন, এই সময় তাঁর ঝতুবতী স্ত্রীর যৌনাঙ্গে একটি কাপড়ের পট্টি বাধা থাকতো। যা নিম্নোক্ত হাদিস গুলোর দ্বারা বুঝা যায়।

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنِ الأَسْوَدِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَتْ إِحْدَانَا إِذَا حَاضَتْ أَمَرَهَا النَّبِيُّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ أَنْ تَأْتَزِرَ بِإِزَارٍ ثُمَّ يُبَاشِرُهَا

আয়িশাহ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাদের কেউ হায়েযগ্রস্ত হলে নাবী (ﷺ) তাকে তার (লজ্জাস্থানে) পাজামা শক্তভাবে বাঁধার নির্দেশ দিতেন, অতঃপর তাকে আলিঙ্গন করতেন।

[বুখারী, মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈল, আস-সহিহ, অধ্যায়ঃ হায়য,পরিচ্ছেদঃ (২০৭), হায়য অবস্থায় স্ত্রীর সাথে মিলামেশা করা, ১/২৯৬, মালিক বিন আনাস, আল-মুয়াত্তা, অধ্যায়ঃ (২) পবিত্রতা অর্জন, পরিচ্ছেদঃ (২৬) স্ত্রী ঋতুমতী থাকিলে ……… , ১/৯৪, ইবনু মাজাহ, মুহাম্মাদ ইবনু ইয়াযিদ, আস-সুনান, অধ্যায়ঃ পবিত্রতা ও তার পন্থাসমূহ, ১/৬৩৫,৬৩৬।]

ঋতুবতী স্ত্রীর সাথে একই পাত্রে খাবার খাওয়াঃ

আল্লাহর রাসূল (ﷺ) এই সময়ে তাদের কে এক সাথে নিয়ে, একই থালায় খাবার গ্রহণ করতেন। শুধু এক সাথে নিয়ে খাবারই নয় আল্লাহ্‌র রাসুল (ﷺ) ঐ দিকে ঠোঁট লাগিয়ে পানি খেতেন যেদিক দিয়ে মা আয়িশা (রাযিঃ) হায়িজা অবস্থায় পানি খেতেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) হাড় কে ঐ দিক থেকেই চিবাতেন যে দিক থেকে আয়িশা (রাযিঃ) ঋতুবতী অবস্থায় চিবাতেন । নিম্নোক্ত সহিহ হাদিস দ্বারা ইসলামের এই আচরণ গুলো অত্যন্ত সুস্পষ্ট ভাবে প্রমাণিত হয়।

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَزُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ مِسْعَرٍ، وَسُفْيَانَ،

عَنِ الْمِقْدَامِ بْنِ شُرَيْحٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كُنْتُ أَشْرَبُ وَأَنَا حَائِضٌ، ثُمَّ أُنَاوِلُهُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَيَضَعُ فَاهُ عَلَى مَوْضِعِ فِيَّ فَيَشْرَبُ وَأَتَعَرَّقُ الْعَرْقَ وَأَنَا حَائِضٌ ثُمَّ أُنَاوِلُهُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَيَضَعُ فَاهُ عَلَى مَوْضِعِ فِيَّ ‏.‏ وَلَمْ يَذْكُرْ زُهَيْرٌ فَيَشْرَبُ ‏.

আয়েশা (রাযি) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ আমি ঋতুবতী অবস্থায় পানি পান করতাম এবং পরে নবী (ﷺ) কে অবশিষ্টটুকু প্রদান করলে আমি যেখানে মুখ লাগিয়ে পান করতাম তিনিও সেই স্থানেই মুখ লাগিয়ে পান করতেন। আবার আমি ঋতুবতী অবস্থায় হাড় খেয়ে তা নবী (ﷺ) কে দিলে আমি যেখানে মুখ লাগিয়েছিলাম তিনি সেখানে মুখ লাগিয়ে খেতেন।

[মুসলিম, আবুল হোসাইন ইবনুল হাজ্জাজ, আস-সহীহ, অধ্যায়ঃ (৩) হায়েজ সম্পর্কিত বর্ণনা, ২/৫৯৯, আহমাদ ইবনু হাম্বল, মুসনাদে আহমদ, অধ্যায়ঃ হায়য-ইস্তিহাযা ও নিফাস, অনুচ্ছেদঃ ঝতুবতী মহিলাদের সাথে খাওয়া দাওয়া …….. , ১/৩২৭, ইবনু মাজাহ, মুহাম্মাদ ইবনু ইয়াযিদ, আস-সুনান, ১/৬৩৪, আবু দাউদ, সুলাইমান ইবনু আশয়াস, আস-সুনান, ১/২৫৯ ।]

حَدَّثَنَا عَبَّاسٌ الْعَنْبَرِيُّ، وَمُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ صَالِحٍ، عَنِ الْعَلاَءِ بْنِ الْحَارِثِ، عَنْ حَرَامِ بْنِ مُعَاوِيَةَ، عَنْ عَمِّهِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَعْدٍ، قَالَ سَأَلْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم عَنْ مُوَاكَلَةِ الْحَائِضِ فَقَالَ

আবদুলাহ ইবনু সা’দ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি হায়িযা নারীর সাথে একত্রে পানাহাযর সম্পর্কে নাবী (ﷺ) কে প্রশ্ন করলাম। তিনি বললেনঃ তার সাথে খাও।

[আলবানী, মুহাম্মাদ নাসিরুদ্দীন, সহীহ আত-তিরমিযী, ১/১৩৩, ইবনু মাজাহ, মুহাম্মাদ ইবনু ইয়াযিদ, আস-সুনান‌ ১/৬৫১, নাসাঈ, আহমাদ ইবনু শুয়াইব, আস-সুনান, ১/৭৬৮, ; ঈমাম আবূ ‘ঈসা (রাহি) বলেন, এ হাদীসটি হাসান গরীব, শাইখ আলবানী বলেনঃ হাদীস সহীহ ।]

ঋতুবতী স্ত্রীর দ্বারা মাথা আঁচড়িয়ে নেয়াঃ

আল্লাহ্‌র নবী (ﷺ) তাঁর ঋতুবতী স্ত্রীদের দিয়ে তাঁর মাথাকে পরিপাটি করে নিতেন। এমনকি তিনি যখন মসজিদে ইতিকাফ করতেন তখনও মা আয়িশা (রাযিঃ) রাসুলুল্লাহর মাথা আচড়িয়ে পরিপাটি করে দিতেন। কিন্তু রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁকে অশুচি, অপয়া বা পশুর চেয়ে নিকৃষ্ট রূপে গণ্য করেননি। যা আমরা নিম্নে উল্লেখিত সহীহ হাদিসের মাধ্যমে প্রমাণ পাই।

حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُوسَى، قَالَ أَخْبَرَنَا هِشَامُ بْنُ يُوسُفَ، أَنَّ ابْنَ جُرَيْجٍ، أَخْبَرَهُمْ قَالَ أَخْبَرَنِي هِشَامٌ، عَنْ عُرْوَةَ، أَنَّهُ سُئِلَ أَتَخْدُمُنِي الْحَائِضُ أَوْ تَدْنُو مِنِّي الْمَرْأَةُ وَهْىَ جُنُبٌ فَقَالَ عُرْوَةُ كُلُّ ذَلِكَ عَلَىَّ هَيِّنٌ، وَكُلُّ ذَلِكَ تَخْدُمُنِي، وَلَيْسَ عَلَى أَحَدٍ فِي ذَلِكَ بَأْسٌ، أَخْبَرَتْنِي عَائِشَةُ أَنَّهَا كَانَتْ تُرَجِّلُ ـ تَعْنِي ـ رَأْسَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهِيَ حَائِضٌ، وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حِينَئِذٍ مُجَاوِرٌ فِي الْمَسْجِدِ، يُدْنِي لَهَا رَأْسَهُ وَهْىَ فِي حُجْرَتِهَا، فَتُرَجِّلُهُ وَهْىَ حَائِضٌ‏.

উরওয়া (র) থেকে বর্ণিত। তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল যে, ঋতুবতী স্ত্রী কি স্বামীর খেদমত করতে পারবে? অথবা গোসল ফরয হওয়ার অবস্থায় কি স্বামীর নিকটবর্তী হতে পারে? উরওয়া জবাব দিলেন এ সবই আমার কাছে সহজ। এ ধরণের সকল মহিলাই স্বামীর খেদমত করতে পারে। এ ব্যাপারে কারো অসুবিধা থাকার কথা নয়। আমাকে আয়িশা (রাযি) বলেছেনঃ তিনি ঋতুবতী অবস্থায় রাসুলুল্লাহ (ﷺ) এর চুল আঁচড়ে দিতেন। আর রাসুলুল্লাহ (ﷺ) মু’তাকিফ অবস্থায় মসজিদ থেকে তার হুজরার দিকে মাথাটা বাড়িয়ে দিতেন। তখন তিনি মাথার চুল আঁচড়াতেন অথচ তিনি ছিলেন ঋতুবতী।

[বুখারী, মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈল, আস-সহিহ,অধ্যায়ঃ হায়য,পরিচ্ছেদঃ (২০৪), হায়েযের সময় স্বামীর মাথা ধুয়ে দেয়া, ১/২৯২।]

স্ত্রীর সাথে একই পাত্রে গোসল করাঃ

হায়েজা স্ত্রীদের সাথে একই পাত্রে পানি নিয়ে একই গোসলখানায় গোসল করা, ইসলাম সমর্থিত বিষয়, যা আমরা নবী (ﷺ) এর সহীহ হাদিস থেকে প্রমাণ পাই।

َدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا مُعَاذُ بْنُ هِشَامٍ، حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، حَدَّثَنَا أَبُو سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَنَّ زَيْنَبَ بِنْتَ أُمِّ سَلَمَةَ، حَدَّثَتْهُ أَنَّ أُمَّ سَلَمَةَ حَدَّثَتْهَا قَالَتْ، بَيْنَمَا أَنَا مُضْطَجِعَةٌ، مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي الْخَمِيلَةِ إِذْ حِضْتُ فَانْسَلَلْتُ فَأَخَذْتُ ثِيَابَ حَيْضَتِي فَقَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ “‏ أَنُفِسْتِ ‏”‏ ‏.‏ قُلْتُ نَعَمْ ‏.‏ فَدَعَانِي فَاضْطَجَعْتُ مَعَهُ فِي الْخَمِيلَةِ ‏.‏ قَالَتْ وَكَانَتْ هِيَ وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَغْتَسِلاَنِ فِي الإِنَاءِ الْوَاحِدِ مِنَ الْجَنَابَةِ ‏

উম্মে সালামা (রাযি) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ একদিন আমি রাসুলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে একই বিছানায় ছিলাম। এমন সময়ে আমার ঋতু দেখা দিলে আমি……. …………………….. ।

উম্মে সালামা একথাও বলেছেন যে, তিনি এবং রাসুলুল্লাহ (ﷺ) (নাপাক অবস্থায়) এক সাথে একই পাত্র হতে পানি নিয়ে পবিত্রতার জন্য গোসল করতেন।

[বুখারী, মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈল, আস-সহিহ, ২/৫৯০।]

প্রাত্যহিক কোন কাজে ঋতুবতী স্ত্রীর সাহায্য নেওয়াঃ

উল্লেখিত কাজ ছাড়াও আপনি আপনার প্রত্যহিক যে কোন ধরণের কাজে আপনার ঋতুবতী স্ত্রীর সহায়তা নিতে পারবেন।

وَحَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، وَأَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ وَأَبُو كُرَيْبٍ قَالَ يَحْيَى أَخْبَرَنَا وَقَالَ الآخَرَانِ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ ثَابِتِ بْنِ عُبَيْدٍ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏”‏ نَاوِلِينِي الْخُمْرَةَ مِنَ الْمَسْجِدِ ‏”‏ ‏.‏ قَالَتْ فَقُلْتُ إِنِّي حَائِضٌ ‏.‏ فَقَالَ ‏”‏ إِنَّ حَيْضَتَكِ لَيْسَتْ فِي يَدِكِ ‏”‏

আয়িশা (রাযি) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ রাসুলুল্লাহ (ﷺ) ই’তিকাফ থাকা অবস্থায় মসজিদ থেকে আমাকে (হাত বাড়িয়ে) জায়নামাযটি দেয়ার জন্যে আদেশ করলেন। আমি বললামঃ আমি তো ঋতুবতী। তিনি আবার বললেনঃ তা আমাকে দাও, ঋতু তো আর হাতে লেগে নেই।

[মুসলিম, আবুল হোসাইন ইবনুল হাজ্জাজ, অধ্যায়ঃ (৩), হায়েজ সম্পর্কিত বর্ণনা, ২/৫৯৭,৫৯৮; আহমাদ ইবনু হাম্বল, মুসনাদে আহমদ, অধ্যায়ঃ হায়য-ইস্তিহাযা ও নিফাস, পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদঃ (৫), ঋতুবতী মহিলার কোলে কুরআন তিলাওয়াত করা ……… , ১/৩২৮, আলবানী, মুহাম্মাদ নাসিরুদ্দীন, সহীহ আত-তিরমিযী, ১/১৩৪, ইবনু মাজাহ, মুহাম্মাদ ইবনু ইয়াযিদ, আস-সুনান, ১/৬৩২ ।]

আমরা ঋতুবতী নারীর সাথে রাসূল (ﷺ) এর আচরণ কেমন ছিল তা দেখলাম। আমরা রাসূল (ﷺ) এর সুন্নাহ থেকে দেখলাম যে, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) ঋতুবতী স্ত্রীদের সাথে কঠোর কিংবা বিদ্রুপাত্মক আচরণ প্রদর্শন করেননি। বরং তিনি এই সময়ে স্ত্রীদের সাথে বরাবরের ন্যায় বন্ধুত্বপূর্ন আচরণই করেছেন।

ঋতুবতী স্ত্রীদের সাহায্যে তিনি মাথা আচড়িয়েছেন। তাদের সাথে একই পাত্রে খাবার খেয়েছেন, গোসল করেছেন। তাদেরকে নিয়ে বিছানায় একসাথে শয়ন করেছেন। রাসূল (ﷺ) শুধু প্রাত্যহিক কাজেই ঋতুবতী স্ত্রীদের সহায়তা নিতেন না বরং তিনি তাঁর ঋতুবতী স্ত্রীর সাথে রাত্রীযাপনকালীন সময় কিয়ামুল লাইল আদায় করতেন। কিয়ামুল লাইল আদায় করার সময় তাঁর ঋতুবতী স্ত্রী সিজদার জায়গায় সোজাসুজি শুয়ে থাকতেন আর নবী (ﷺ) চাটাইয়ের উপরে সলাত আদায় করতেন। এমনকি তিনি যখন সিজদায় যেতেন তার কাপড়ের কিছু অংশ তার ঋতুবতী স্ত্রীর গায়ে লাগতো কিন্তু তিনি এতে কিছুই মনে করতেন না।

ইসলামিক বিষয়ে আরও জ্ঞ্যান অর্জন করতে এখানে ক্লিক করুন।

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ مُدْرِكٍ، قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَمَّادٍ، قَالَ أَخْبَرَنَا أَبُو عَوَانَةَ ـ اسْمُهُ الْوَضَّاحُ ـ مِنْ كِتَابِهِ قَالَ أَخْبَرَنَا سُلَيْمَانُ الشَّيْبَانِيُّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَدَّادٍ، قَالَ سَمِعْتُ خَالَتِي، مَيْمُونَةَ ـ زَوْجَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهَا كَانَتْ تَكُونُ حَائِضًا لاَ تُصَلِّي، وَهْىَ مُفْتَرِشَةٌ بِحِذَاءِ مَسْجِدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهْوَ يُصَلِّي عَلَى خُمْرَتِهِ، إِذَا سَجَدَ أَصَابَنِي بَعْضُ ثَوْبِهِ‏
হাসান ইবন মুদরিক (র)……’আবদুল্লাহ ইবন শাদ্দাত (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমি আমার খালা নবী (সঃ) –এর পত্নী মায়মূনা (রা) থেকে শুনেছি যে, তিনি হায়য অবস্থায় সালাত আদায় করতেন না; তখন তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সিজদার যায়গায় সুজাসুজি শুয়ে থাকতেন। নবী (ﷺ) তাঁর চাটাইয়ে সালাত আদায় করতেন। সিজদা করার সময় তাঁর কাপড়ের অংশ আমার গায়ে লাগতো।
[মুসলিম, আবুল হোসাইন ইবনুল হাজ্জাজ, অধ্যায়ঃ (৩), হায়েজ সম্পর্কিত বর্ণনা, ২/৫৯৭,৫৯৮; আহমাদ ইবনু হাম্বল, মুসনাদে আহমদ, অধ্যায়ঃ হায়য-ইস্তিহাযা ও নিফাস, পরিচ্ছেদঃ (৬), ঋতুবতী মহিলার কাপর চোপড় পবিত্র ………, ১/৩২৯।]

আবার অপর হাদীস থেকে দেখা যায় যে রাসূল (ﷺ) ঋতুবতী স্ত্রীদের কোলে মাথা রেখে কোরআন তিলাওয়াত করতেন কিন্তু এতে কোন সমস্যা বোধ করতেন না।

حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ الْفَضْلُ بْنُ دُكَيْنٍ، سَمِعَ زُهَيْرًا، عَنْ مَنْصُورٍ ابْنِ صَفِيَّةَ، أَنَّ أُمَّهُ، حَدَّثَتْهُ أَنَّ عَائِشَةَ حَدَّثَتْهَا أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَتَّكِئُ فِي حَجْرِي وَأَنَا حَائِضٌ، ثُمَّ يَقْرَأُ الْقُرْآنَ‏
আয়িশা (রাযি) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি নবী (ﷺ) আমার কোলে হেলান দিয়ে কোরআন তিলাওয়াত করতেন। আর তখন আমি হায়েযের অবস্থায় ছিলাম।
[বুখারী, মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈল, আস-সহিহ, অধ্যায়ঃ হায়য,পরিচ্ছেদঃ (২০৫), স্ত্রীর হায়য অবস্থায় তার কোলে মাথা রেখে ………… , ১/২৯৩; মুসলিম, আবুল হোসাইন ইবনুল হাজ্জাজ, আস-সহীহ, অধ্যায়ঃ (৩), হায়েজ সম্পর্কিত বর্ণনা, ২/৬০০; আহমাদ ইবনু হাম্বল, মুসনাদে আহমদ, অধ্যায়ঃ হায়য-ইস্তিহাযা ও নিফাস, পরিচ্ছেদঃ (৫), ঝতুবতী মহিলার কোলে কুরআন তিলাওয়াত করা ……… , ১/৩২৭-৩২৮, ইবনু মাজাহ, মুহাম্মাদ ইবনু ইয়াযিদ, আস-সুনান, ১/৬৩৪, আবু দাউদ, সুলাইমান ইবনু আশয়াস, আস-সুনান, ১/২৬০, নাসাঈ, আহমাদ ইবনু শুয়াইব, আস-সুনান, ১/২৭৪ ।]

কুরবানির সম্পর্কে মাসয়ালা জানতে এখানে ক্লিক করুন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close