জরুরী মাসায়েলনারীদের বিশেষ মাসালাপ্রশ্নোত্তরমাসায়ের

ঔষধ খেয়ে হায়েয বন্ধ রেখে সহবাস করা বা রোজা রাখা যায়েজ হবে কি?

ঔষধ খেয়ে হায়েয বন্ধ রেখে সহবাস করা বা রোজা রাখা যায়েজ হবে কি?

হায়েজ অবস্থায় যদি কেউ যৌনমিলনে লিপ্ত হয় তবে তার ওপর এই পাপের কাফফারা আদায় করা ওয়াজিব হয়ে যাবে। কাফফারার পরিমাণ হলো এক দীনার অথবা অর্ধ দীনার। এ ক্ষেত্রে দলীল হলো, আবু দাউদ বর্ণিত একটি হাদীস। কোনো কোনো আলেম হাদীসটিকে দুর্বল বলেছেন। কিন্তু বিশুদ্ধ মত হলো, হাদীসটির বর্ণনা কারীরা সকলেই নির্ভর যোগ্য। সুতরাং দলীল হিসেবে উহা গ্রহণযোগ্য। তাহলে এখন প্রশ্ন হচ্ছে কেউ যদি ঔষধ খেয়ে হায়েয বন্ধ করে সহবাস অথবা নামাজ রোজা করে তার ব্যাপারে ইসলাম কিবলে আমরা জানার চেষ্টা করবো ইনশাল্লাহ।

এই কাফফারা ওয়াজিব হওয়ার শর্ত হলঃ
(১) ব্যক্তির জ্ঞান থাকা। (যে হায়য অবস্থায় ইহা হারাম)
(২) স্মরণ থাকা। (ভুল ক্রমে নয়) এবং
(৩) ইচ্ছাকৃতভাবে সে কাজে লিপ্ত হওয়া। (কারো জবরদস্তী করার কারণে নয়।)
যদি উক্ত কাজে স্বামীর অনুগত হয় তবে তারও ওপর উক্ত কাফফারা ওয়াজিব হবে।

আমাদের ওয়েবসাইটে বিভিন্ন্য বিষয়ে পড়তে এখানে ক্লিক করুন।

তবে ট্যাবলেট বা বড়ি খেয়ে মাসিক বন্ধ করে রোজা রাখলে রোজা হয়ে যাবে। ট্যাবলেট দ্বারা হায়েয বন্ধ হলে স্বামীর সঙ্গে মেলামেশাও করতে পারবে। তবে মেয়েদের স্বাভাবিক অবস্থায় বিরুদ্ধে এ নিয়মে শরীরের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। তাই ট্যাবলেট না খাওয়াই উত্তম। বরং, স্রাব চালু থাকতে দিবে এবং পরবর্তীতে রোজা কাজা করে নিবে। মনে রাখবেন, এতে রমজানের রোজার সওয়াব কমবে না। তবে ওজরে ভিন্ন কথা।

দলিলঃ কুরআনের আয়াত-

وَيَسْأَلُونَكَ عَنِ الْمَحِيضِ ۖ قُلْ هُوَ أَذًى فَاعْتَزِلُوا النِّسَاءَ فِي الْمَحِيضِ ۖ وَلَا تَقْرَبُوهُنَّ حَتَّىٰ يَطْهُرْنَ ۖ فَإِذَا تَطَهَّرْنَ فَأْتُوهُنَّ مِنْ حَيْثُ أَمَرَكُمُ اللَّهُ ۚ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ التَّوَّابِينَ وَيُحِبُّ الْمُتَطَهِّرِينَ

অর্থঃ “আর তারা তোমাকে হায়েজ সম্পর্কে প্রশ্ন করে, বল তা কষ্টকর। সুতরাং তোমরা হায়েজকালে স্ত্রী সঙ্গম (যৌনমিলন) বর্জন করবে এবং তারা পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত স্ত্রী সঙ্গম করবে না। অতঃপর তারা যখন পবিত্র হবে তখন তাদের নিকট ঠিক সে ভাবে গমন করবে যেভাবে আল্লাহ্‌ তোমাদেরকে আদেশ দিয়েছেন”। (সুরা বাকারাহঃ ২২২ আয়াত)

এখানে পবিত্র হওয়ার অর্থ হচ্ছে হায়েজ বন্ধ হওয়া। তাই ট্যাবলেট বা বড়ি খেয়ে মাসিক বন্ধ করে পবিত্র হলে তখন স্বামীর সাথে সহবাস বা রোজা রাখা যাবে। তবে এটা না করাই উত্তম।

অন্নান্য বিষয়ে আরও পড়তে এখানে ক্লিক করুন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close